বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৬৩ জন সংবাদটি দেখেছেন

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আসনটির আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁকে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান।

মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যেসব কাজ করেছে, তা সংশ্লিষ্ট নেতারাও স্বীকার করেছেন। আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে। এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছারই প্রতিফলন।

দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। একইভাবে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।

তিনি বলেন, জাতির সংকটময় সময়ে যখন ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি, তখন অন্য ক্ষেত্রেও ধর্মকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। দেশ স্বাধীন করা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আল্লাহ তাঁকে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। নিজের অবস্থান থেকে তিনি চেষ্টা করবেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে তাঁর সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে।

তিনি আরও বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের যে অধিকার ও প্রাপ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর কর্তব্য। সেই দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁরা ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com