গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী শিল্পাঞ্চলে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, সিআরবি ও পুলিশ আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। প্রায় সাড়ে ১২ ঘণ্টার চেষ্টায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ১০টা ২৫ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কারখানার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে কারখানার ইউনিট-২-এর একটি ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ধোঁয়া ও রাসায়নিকের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ জানান, কারখানায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপকরণ থাকায় আগুন নেভানোর কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চলাকালে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
কারখানাটিতে ইনজেকশন, সিরাপ ও ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদন করা হয়। আগুনে একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ওষুধ, উৎপাদনযন্ত্র, কাঁচামাল ও অন্যান্য সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। উৎপাদনব্যবস্থা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা-ও স্পষ্ট নয়।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি ও কারখানার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গণমাধ্যমকর্মীরা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কারখানার ভেতরে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে জানা গেছে।
ফলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ, রাসায়নিক উপকরণের কারণে পরিবেশে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে কি না এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।