যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খোলা নিষিদ্ধ করে করা আইন কার্যকরের অনুমতি দিয়েছে দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশুদের প্রবেশ সীমিত করার এই আইনের বিরুদ্ধে প্রযুক্তি শিল্পের সংগঠনগুলোর করা চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আটলান্টাভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিলের তিন বিচারকের প্যানেল সর্বসম্মতভাবে এ রায় দেন। এর ফলে এইচবি ৩ (HB 3) নামে পরিচিত আইনটির ওপর নিম্ন আদালতের দেওয়া প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়েছে।
রায়ে আদালত বলেন, আইনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করে না। ফলে এটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত বাক্স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে না বলে আদালত মনে করেন।
আইন অনুযায়ী, ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হওয়া (অটোপ্লে) এবং অনবরত স্ক্রল করার (ইনফিনিট স্ক্রল) মতো সম্ভাব্য আসক্তি সৃষ্টিকারী ফিচার থাকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের অ্যাকাউন্ট খুলতে দিতে পারবে না।
রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া সার্কিট বিচারক কেভিন নিউজম লেখেন, এইচবি ৩ প্ল্যাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে—সেখানে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কিংবা কী ধারণা ও বার্তা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা বিবেচনায় না নিয়েই। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ট্রুথ সোশ্যালের মতো প্ল্যাটফর্মও এই আইনের আওতায় পড়তে পারে।
মেটা প্ল্যাটফর্মস, টিকটক ও স্ন্যাপের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী প্রযুক্তি শিল্পের সংগঠন নেটচয়েস এবং কম্পিউটার অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (সিসিআইএ) ২০২৪ সালে আইনটি কার্যকর হওয়া ঠেকাতে মামলা করে।
সংগঠনগুলোর যুক্তি ছিল, আইনটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে সুরক্ষিত বাক্স্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করে। তবে আপিল আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।
রায়ের পর নেটচয়েস লিটিগেশন সেন্টারের পরিচালক পল এক বিবৃতিতে বলেন, অনলাইনে মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার লক্ষ্যে তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সব বিকল্প বিবেচনা করছেন।
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ারের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।
আদালতের এই রায়ের ফলে ফ্লোরিডায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকরের পথ খুলেছে। তবে আইনটির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে কি না, সে বিষয়ে নেটচয়েসের পরবর্তী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।