বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও মানব পাচার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি টহল কার্যক্রম বাড়ানো হবে। স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি রাখা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ঢাকা জোনে ৩৭টি, পূর্ব জোনে (চট্টগ্রাম) ৬৩টি, পশ্চিম জোনে (মোংলা) ১৪৪টি এবং দক্ষিণ জোনে (ভোলা) ৩৭১টি মন্দির ও পূজামণ্ডপ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৬১৫টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন কোস্টগার্ড সদস্যরা।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সাম্প্রদায়িক উসকানি, গুজব ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোস্টগার্ড প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।
প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌপথে দুর্ঘটনা এড়াতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা, নৌযানে থাকা ব্যক্তিদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করা এবং সাঁতার না জানা ব্যক্তিদের নৌযানে না ওঠার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।
এ ছাড়া বিসর্জনস্থলে নৌযানডুবির মতো দুর্ঘটনা ঘটলে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে কোস্টগার্ডের বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে।
কোস্টগার্ড জানিয়েছে, জননিরাপত্তায় এ কার্যক্রম ১৬ অক্টোবর থেকে প্রতিমা বিসর্জনের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য কোস্টগার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।