যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এনবিআরের সংশ্লিষ্ট দুটি কার্যালয় থেকে জারি করা পৃথক অফিস আদেশে তাঁদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মচারী হলেন কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চল, ঢাকার অধীন খুলনার জরিপ সার্কেল-১-এ কর্মরত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে কর্মরত অফিস সহায়ক মো. নুর মোহাম্মদ।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৩ (এসআরবি-৩) ওই দুই কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর সরকারি চাকরিসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর থেকেই তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা প্রচলিত বিধি অনুসারে খোরপোষ ভাতা পাবেন।
জনস্বার্থে জারি করা পৃথক অফিস আদেশ দুটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়।
সংস্থাটি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মচারী রয়েছেন।
এনবিআরের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মোহাম্মদও ওই সাতজনের মধ্যে ছিলেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে এসআরবি। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের জন্য গত ১০ অক্টোবর বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
এ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছিলেন মোট ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল।
তবে সকাল ১০টার পর প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
ফলে পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রস্তুত থাকা বিপুলসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীকে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হয়।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর এনবিআরের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
তবে সাময়িক বরখাস্ত কোনো চূড়ান্ত বিভাগীয় শাস্তি নয়। এটি সরকারি চাকরিসংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
এদিকে স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ সম্পর্কে দেওয়া তথ্যে কোনো ঘোষণা উল্লেখ করা হয়নি।