বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও আধুনিক ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪১ জন সংবাদটি দেখেছেন
শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ওসমানী উদ্যানে পৌঁছান। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ চারজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম।

স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা হয়েছে ৮৩৪ শহীদের নাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা ৯০ ফুট। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই স্থাপনায় লেজার কাটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে।

স্মৃতিস্তম্ভের সামনে স্থাপন করা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরার উদ্দেশ্যে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হয়েছে।

ভাস্কর্যে বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস

স্মৃতিস্তম্ভের বাইরের অংশে ১৬৩ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৪ ফুট উঁচু একটি রিলিফ ভাস্কর্য রয়েছে।

অন্যদিকে ভেতরের অংশে নির্মাণ করা হয়েছে ১৭১ ফুট দীর্ঘ ও সাড়ে ৭ ফুট উঁচু আরেকটি রিলিফ ভাস্কর্য।

এসব ভাস্কর্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন ও সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।

আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানও উদ্বোধন

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধন করেন।

এ সময় তিনি উদ্যানের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি উদ্যানসংলগ্ন গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করেন।

রাজধানীর পুরান ও নতুন ঢাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানের আয়তন প্রায় ২৩ একর।

আধুনিকায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যানটিকে আরও সবুজ, নিরাপদ ও নাগরিকদের বিনোদনের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে।

পাঁচটি নতুন জলাশয় ও তিন কিলোমিটারের বেশি হাঁটার পথ

উদ্যানের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি পাঁচটি নতুন জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণ করে নতুন গাছ লাগানো এবং সবুজ দ্বীপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উদ্যানজুড়ে প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে।

নাগরিক সুবিধা বাড়াতে রাখা হয়েছে ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, পার্কিং ব্যবস্থা এবং জলাশয়ের ঘাট।

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা

আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যানে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এখানে একসঙ্গে ৫০ হাজার লিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

দুই স্তরে সাজানো উদ্যানটিতে সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে দ্রুত চলাচলের জন্য আলাদা পথ নির্মাণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং রাজধানীর নাগরিক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com