কুড়িগ্রামের উলিপুরে বাচ্চু মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর নাতি রাব্বি মিয়ার (২০) বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত মধুপুর খামার গ্রামের পণ্ডিতপাড়া এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাব্বি পলাতক রয়েছেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর বাচ্চু মিয়া উলিপুরের ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের কিসামত মধুপুর খামার গ্রামে তাঁর ছোট বোন মাজেদার বাড়িতে বেড়াতে যান। এক দিন সেখানে থাকার পর ১৯ অক্টোবর একই গ্রামের পণ্ডিতপাড়ায় বড় ভাই একাব্বর আলীর বাড়িতে যান তিনি।
একই দিন একাব্বর আলীর নাতি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাব্বি মিয়া গাজীপুর থেকে দাদার বাড়িতে আসেন। রাতে সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। পরে রাত ১০টার দিকে বাচ্চু মিয়া ও রাব্বি ঘুমাতে একই ঘরে যান।
একাব্বর আলী জানান, গভীর রাতে ঘর থেকে রাব্বির চিৎকার ও অস্বাভাবিক ডাকাডাকি শুনে তিনি ও তাঁর স্ত্রী জেগে ওঠেন। জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরে তাকিয়ে তাঁরা বাচ্চু মিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর শরীরের দুই পা বিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানান একাব্বর আলী।
তিনি আরও জানান, তাঁরা চিৎকার শুরু করলে রাব্বি ঘরের দরজা খুলে দেয়। এ সময় তার হাতে কাপড়ে প্যাঁচানো রক্তমাখা একটি ধারালো ছুরি দেখতে পান তাঁরা। পরে একাব্বর আলী প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি শুরু করলে সুযোগ বুঝে রাব্বি পালিয়ে যায়।
একাব্বর আলী বলেন, জমিজমা নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল না। তাঁর দাবি, রাব্বি মাদকাসক্ত। তবে নাতি এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, তা তাঁরা কখনো ভাবেননি।
উলিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন জানান, রাত ২টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের দুই পা বিচ্ছিন্ন এবং গলা আংশিক কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পলাতক রাব্বিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে।