মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরশহরের কাদিমনগর সার্বজনীন দুর্গামন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসব পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ধর্মীয়ভাবে হয়তো বিভাজিত। কেউ কাউকে আদিবাসী বলি, কেউ সনাতন ধর্মাবলম্বী বলি। কেউ পাহাড়ে থাকি, কেউ সমতলে। কিন্তু দিনের শেষে আমরা বাংলাদেশের লোক, আমাদের পরিচয় বাংলাদেশি।’
তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতেই নিজেদের দুর্বল, সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যায় কম বলে ভাবার কারণ নেই।
মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সমর্থন পেতে গত বছরের দুর্গাপূজায় যাঁরা স্বেচ্ছাসেবক পাঠিয়েছিলেন, চলতি বছর তাঁদের আর মাঠে দেখা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘গত বছর ছিল, এ বছর নাই। তাহলে কি ক্ষমতার জন্যই রাজনীতি করেছিলেন?’
মন্ত্রী বলেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণে কাজ করা। জনগণের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের সমস্যার কথা বলা এবং সেবা নিশ্চিত করাই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব।
বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলটি অতীতেও জনগণের পাশে ছিল এবং বর্তমানে সরকারে থেকেও মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক আস্থা ও জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ধর্মীয় ও সামাজিক ভিন্নতা যেন নাগরিকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ এবং ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান।
এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামীম হোসেন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ মিয়া, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেন এবং কাদিমনগর সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের সভাপতি হিমাংশু কুমার সাহা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং উপজেলা ও পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।