রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করত একটি চক্র। চক্রটির প্রধান শাহিন মিয়াসহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আটটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। গত ৫ অক্টোবর বিকেলে নগরীর আলহাজনগর দর্শনা গ্রামের আবদুল ওহাবের বাসার ফটকের সামনে থেকে গোলাম রব্বানী নামের এক ব্যক্তির অ্যাপাচি ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় তিনি তাজহাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৯ অক্টোবর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকা থেকে চক্রের প্রধান শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে গ্রেপ্তার করা হয় আরও চারজনকে। তাঁরা হলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার শিমুল মণ্ডল, পীরগঞ্জ উপজেলার কাজীরপাড়ার মিলন মিয়া, জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকার হাসান মিয়া ও ভগবানপুরের রাশেদ প্রধান। এ সময় চুরি হওয়া মোটরসাইকেলসহ পাঁচটি বাইক উদ্ধার করা হয়।
পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গত ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পীরগঞ্জের শানেরহাট বাজার এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য রাসেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিবন্ধনহীন আরও তিনটি চোরাই পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের সংখ্যা দাঁড়ায় আটটিতে।
পুলিশের ভাষ্য, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে নির্দিষ্ট স্থানে জমা রাখত। পরে সুযোগ বুঝে সেগুলো কম দামে বিক্রি করে দিত। চক্রটির সদস্যদের গ্রেপ্তারে গত দুই মাস ধরে কাজ করছিল পুলিশ।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, চক্রের প্রধান শাহিন মিয়াসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, রিমান্ডে থাকা পাঁচ আসামিকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হবে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার রাসেল মিয়াকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।