সংগীতশিল্পী ও বিসিবির সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখছে পুলিশের একাধিক ইউনিট। আসিফ আকবরের সঙ্গে কারও পূর্বশত্রুতা বা ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হচ্ছে।
শনিবার ভোরে রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলির সময় আসিফ আকবর ভবনটির তৃতীয় তলায় নিজের অফিসে ছিলেন। ফলে তিনি অক্ষত রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবুল বাশার তালুকদার। তিনি আসিফ আকবরের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সাংবাদিকদের জানান, গাড়িতে গুলির ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিশাল সেন্টারের সামনে ফুটপাতে পার্ক করা আসিফ আকবরের ঢাকা মেট্রো-গ-১৯-২৭৭৭ নম্বরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় আসা এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গুলি ছোড়েন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে আসিফ আকবর ও তাঁর এক বন্ধুর উপস্থিতিতে গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে গুলির একটি খোসা উদ্ধার করা হয়। জব্দ তালিকার মাধ্যমে সেটি জব্দ করেছে পুলিশ। গাড়িটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনার কারণ এখনো প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি। আসিফ আকবরও এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। গাড়ি থেকে গুলির একটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গুলির সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ আকবর। তাই তিনি অক্ষত রয়েছেন। তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।