৩৯ বছর বয়সেও বিশ্ব ফুটবলের সেরাদের তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর র্যাংকিংয়ে পঞ্চম হয়েছেন ইন্টার মায়ামির এই ফরোয়ার্ড। ইউরোপের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) খেলেও শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) লন্ডনের প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবারের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। পুরস্কার জিতে আলোচনায় ছিলেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। তবে মেসির পঞ্চম স্থান অর্জনও ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
গত বছর ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পাননি মেসি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর আবারও আলোচনায় ফেরেন তিনি। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আট গোল ও চারটি অ্যাসিস্ট করেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে দ্বিতীয় হওয়ার পাশাপাশি জেতেন সিলভার বল।
মেসির নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। তবে অতিরিক্ত সময়ের লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় দলটির।
ব্যালন ডি’অরের সেরা দশে যারা
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর র্যাংকিংয়ে মেসির ওপরে রয়েছেন চারজন। পুরস্কার জিতেছেন হ্যারি কেইন। দ্বিতীয় কিলিয়ান এমবাপ্পে, তৃতীয় লামিনে ইয়ামাল এবং চতুর্থ রদ্রি। ২০১৮ সালের পর আবারও ব্যালন ডি’অরের সেরা পাঁচে জায়গা করে নিলেন মেসি।
সেরা দশে ষষ্ঠ হয়েছেন পিএসজির খভিচা কাভারাস্খেলিয়া, সপ্তম ওসমান দেম্বেলে এবং অষ্টম ম্যানচেস্টার সিটির আর্লিং হালান্ড। আগের বছরের ২৬তম অবস্থান থেকে এবার অনেকটা এগিয়েছেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার। নবম ও দশম স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল অলিসে ও পিএসজির মিডফিল্ডার ফাবিয়ান রুইজ।
২৪ বছর পর ইংলিশ ফুটবলারের হাতে ব্যালন ডি’অর
এবারের পুরস্কার জিতে ইংলিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছেন হ্যারি কেইন। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন তিনি।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই স্ট্রাইকার। এক মৌসুমে গোলসংখ্যার হিসাবে এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্জন। এর আগে ২০১১-১২ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসি করেছিলেন ৮২ গোল।
পুরস্কার জয়ের পর নিজের সাবেক ক্লাব টটেনহাম হটস্পারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কেইন। ১১ বছর বয়সে ক্লাবটির একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর সেখানেই তার ফুটবল ক্যারিয়ারের বড় অংশ গড়ে ওঠে বলে জানান তিনি।
ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না মেসি। এর কয়েক দিন আগে, ২৩ অক্টোবর স্পেনের ওভিয়েদোতে খেলাধুলায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি। একই সময়ে ইন্টার মায়ামির আয়োজনে শুরু হয়েছে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে মেসি কাপ, যা চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত।
ক্যারিয়ারে আটবার ব্যালন ডি’অর জিতে পুরস্কারটির ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যকবার বিজয়ী হওয়ার রেকর্ড মেসির দখলে। বয়স ও ইউরোপের বাইরের লিগে খেলার পরও ২০২৬ সালের তালিকায় পঞ্চম হওয়া তার দীর্ঘদিনের সাফল্যের ধারাবাহিকতাকে সামনে এনেছে।