মহান বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) উদযাপন উপলক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ১৩-১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বিজয় দিবসের সকালে ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১৬ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্মৃতিসৌধে জনসাধারণ ঢুকতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তথ্য অধিদপ্তরের এক বিবরণীতে এ নির্দেশনা জানানো হয়।
বিবরণীতে বলা হয়, স্মৃতিসৌধকে কেন্দ্র করে ঢাকার গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো পোস্টার, ব্যানার বা ফেস্টুন লাগানো যাবে না। এছাড়া পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগান যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে সরকার জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
– ১৬ ডিসেম্বর ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে।
– সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরবর্তীতে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারাও শ্রদ্ধা জানাবেন।
– সরকারি-বেসরকারি সব ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা থাকবে। তবে ১৪ ডিসেম্বর রাতে আলো জ্বালানো যাবে না।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে ৫৪ জন প্যারাট্রুপার পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি গিনেস বুকে স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
– বিজয় দিবসের দিন বেলা ১১টায় তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পৃথক ফ্লাই পাস্ট মহড়া হবে।
– সারা দেশে বাহিনীগুলোর ব্যান্ড পরিবেশনা করা হবে।
– জেলা-উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুচকাওয়াজ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও ডিসপ্লে প্রদর্শন হবে।
– সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অ্যাক্রোবেটিক শো, যাত্রাপালা ও বিজয় দিবসের গান পরিবেশিত হবে।
দেশের সব স্কুল-কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, রচনা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সিনেমা হলগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।
– প্রধান বন্দর, ঘাট, নৌবাহিনীর জাহাজ ও কোস্টগার্ডের জাহাজ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে।
– শিশুপার্ক ও জাদুঘরগুলো বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত, যুদ্ধাহত ও মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনায় দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।