আরএনবি ডেস্কঃ ইরানে চলমান বিক্ষোভ নতুন মোড় নিয়েছে। শুরুতে অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হলেও এখন আন্দোলনকারীদের কণ্ঠে সরাসরি সরকার উৎখাতের দাবি শোনা যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর পদত্যাগ দাবি করে ‘স্বৈরশাসকের পতন চাই’ স্লোগান দিচ্ছেন। রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। আন্দোলনকারীরা সরকারি ভবন, মসজিদ ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। কোথাও কোথাও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাল্টা প্রতিরোধে আন্দোলনকারীরাও সহিংসতায় জড়াচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তেহরানের এক চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টাইম সাময়িকীকে জানান, শহরের ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ এবং তাদের বড় একটি অংশ তরুণ। ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে। তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান দাবিতে রূপ নেয়। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালাতে শুরু করে। এ সময় বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি-এর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র অসংখ্য সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একে ধ্বংস করার চেষ্টা করলে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না।একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে আন্দোলনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করছে।