উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয় বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন কিম ইয়ো জং। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পিয়ংইয়ং সফরের প্রাক্কালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টাকে ‘সেকেলে কল্পনা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
রোববার (৭ জুন) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, “পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান কোনোভাবেই আলোচনাযোগ্য নয়। আমাদের পারমাণবিক মর্যাদার বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
তিনি গত মাসে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন। ওই বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস দাবি করেছিল, ওয়াশিংটন ও বেইজিং কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার অভিন্ন লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কিম ইয়ো জং এ দাবিকে ‘মিথ্যা তথ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এখনও বাস্তবতাবিবর্জিত চিন্তাভাবনা থেকে বের হতে পারেননি।
তার ভাষায়, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক শক্তিকে অস্বীকার বা দুর্বল করার মার্কিন প্রচেষ্টার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। দেশটির নেতৃত্বের নির্দেশনায় আত্মরক্ষামূলক পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার নীতি অব্যাহত থাকবে।
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ সালে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সংবিধানে পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
এদিকে দুই দিনের সফরে উত্তর কোরিয়ায় যাওয়ার কথা রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। প্রায় সাত বছর পর এটি হবে তার প্রথম পিয়ংইয়ং সফর। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক চাপের মধ্যে চীনের সমর্থন উত্তর কোরিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং মস্কোর রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে উত্তর কোরিয়া।
কিম ইয়ো জংয়ের সর্বশেষ মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতার পথে আপাতত হাঁটতে রাজি নয় পিয়ংইয়ং। দেশটির নেতৃত্ব পারমাণবিক শক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখছে।