শুরু হলো মহান স্বাধীনতার মাস। বাঙালির গৌরব, বেদনা ও আত্মত্যাগের মহাকাব্যরূপ অগ্নিঝরা মার্চ আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে বঞ্চনার ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের পথচলায় সংগ্রামী দিনগুলোর স্মৃতি।
১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ বিভক্ত হলেও পূর্ববাংলার মানুষের ভাগ্যে প্রকৃত স্বাধীনতা আসেনি। রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, অর্থনৈতিক শোষণ, সংস্কৃতি ও ভাষার ওপর দমন-পীড়ন ক্রমেই বাঙালির ক্ষোভকে তীব্রতর করে তুলেছিল। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে পরিণত করে জাতিসত্তার প্রথম সুসংগঠিত প্রতিরোধে।
এরপর ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন এবং ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে আরও শক্ত ভিত দেয়। দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার মধ্যেও থেমে থাকেনি সংগ্রাম; বরং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান পাকিস্তানি শাসনের ভিত নড়বড়ে করে দেয়।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর বিলম্ব করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। চক্রান্ত ও গড়িমসির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ জনতার প্রত্যাশার প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেন—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
এর পরই ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। ২৭ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান ঘোষণাটি পুনরায় প্রচার করেন। বাঙালি জাতি সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার মাস শুধু স্মৃতি নয়—ন্যায়, সাম্য, মর্যাদা ও গণতন্ত্রের চেতনা ধরে রাখারও অঙ্গীকার। অগ্নিঝরা মার্চ স্মরণ করায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই জাতিকে মুক্তির পথে এগিয়ে নেয়।