রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাজেটের পর পণ্যের দাম না বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে নতুন মোড়, অভিযোগকারী নারীকে ‘তুলে নেওয়ার’ দাবি পরিবারের রংপুর মেডিকেলে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, জরুরি বিভাগে সেবা ব্যাহত মাদক পাচার দমনে এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেছে পেরু বাজেটকে সর্বোচ্চ অন্তর্ভুক্তিমূলক করার চেষ্টা করেছি: অর্থমন্ত্রী সুবর্ণচরে নারীকে মারধরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে পতাকা টাঙ্গাতে গিয়ে গাছে অজ্ঞান যুবক, ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় উদ্ধার মরক্কোর বিপক্ষে যে একাদশ নিয়ে মাঠে নামতে পারে ব্রাজিল মদ-সিগারেটের ট্যাক্স বাড়ানোয় বিরোধী দল নাখোশ : প্রধানমন্ত্রী বাজেট বড় হলেও বাস্তবায়ন সম্ভব : এফবিসিসিআই

খামেনি নিহতের পর ইরান কীভাবে জবাব দিচ্ছে, অস্ত্রভাণ্ডার কতটা শক্তিশালী

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৬ জন সংবাদটি দেখেছেন

শনিবার ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন। এর পরপরই তেহরান দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। ইরান জানায়, তাদের প্রতিশোধমূলক হামলা ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

যুদ্ধের পটভূমি ও পরিবর্তন

২০২৫ সালের জুন মাসের ১২ দিনের যুদ্ধের চেয়ে এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ইরান এখন তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে দেখছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিশোধ নেওয়াকে দেশের অপরিহার্য দায়িত্ব এবং বৈধ অধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

ইরানের প্রধান অস্ত্রসমূহ:
১. ব্যালিস্টিক মিসাইল (Ballistic Missiles):
ইরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময় মিসাইল ভাণ্ডার রয়েছে।

পাল্লা: ইরানের দীর্ঘপাল্লার মিসাইলগুলো ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর যেকোনো মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এগুলো সরাসরি আমেরিকায় পৌঁছাতে পারে না।

স্বল্পপাল্লার মিসাইল: যেমন ফাতাহ (Fateh), জোলফাগার (Zolfaghar) এবং কিয়াম-১। এগুলো দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য এবং খুব কম সময়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

মধ্যপাল্লার মিসাইল: শাহাব-৩, এমাদ, সাজ্জিল এবং খায়বার শেকানের মতো মিসাইলগুলো পুরো অঞ্চলকে ইরানের আওতার মধ্যে নিয়ে এসেছে।

২. ক্রুজ মিসাইল ও ড্রোন:

ক্রুজ মিসাইল: এগুলো মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায় বলে রাডারে ধরা পড়া কঠিন। সুমার (Soumar) মডেলের ক্রুজ মিসাইল ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে।

ড্রোন: সস্তা কিন্তু কার্যকর এই ড্রোনগুলো ঝাঁক বেঁধে (Saturation tactic) হামলা চালিয়ে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত বা অকেজো করে দিতে পারে।

৩. আন্ডারগ্রাউন্ড ‘মিসাইল সিটি’ বা ভূগর্ভস্থ শহর:
ইরান গত কয়েক বছরে মাটির গভীরে অসংখ্য টানেল এবং সুরক্ষিত ঘাঁটি তৈরি করেছে। এর ফলে প্রথম দফার হামলায় ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা অসম্ভব, যা যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করার সুযোগ দেয়।

হরমুজ প্রণালি ও অর্থনৈতিক চাপ

ইরান শুধু স্থলভাগে নয়, কৌশলগতভাবে হরমুজ প্রণালিকেও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে দেখছে। নৌ মাইন, অ্যান্টি শিপ মিসাইল, ড্রোন ব্যবহার করে এই রুটে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করা হয়। ইতোমধ্যে ডেনিশ শিপিং কোম্পানি মার্স্ক এই পথে জাহাজ চলাচল স্থগিত করেছে।

ইরানের বক্তব্যে স্পষ্ট, তারা এই সংঘাতকে সীমিত অভিযান হিসেবে দেখছে না। বরং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। হিজবুল্লাহ, হুথিদের মতো মিত্র গোষ্ঠীগুলো তেহরানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। ফলে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com