রাজধানীর কাফরুল এলাকায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৪–এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়েছে, আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে জরিমানার অর্থ আদায় করে তা ভুক্তভোগীকে দিতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ছাড়া আসামির সম্পত্তি জব্দ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগীর সন্তানের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হবে। রায়ে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীর বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে হবে। যদি আসামির সম্পত্তি থেকে তা সম্ভব না হয়, তবে রাষ্ট্র সেই দায়িত্ব নেবে।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার বিচারকালে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। ঘটনার প্রায় ১১ মাস আগে ভুক্তভোগীর স্বামীর মৃত্যু হয়। সেই সূত্রে আসামি নিয়মিত তার বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাফরুল থানার ইব্রাহিমপুর এলাকার একটি বাসায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন জাহাঙ্গীর। পরে বিষয়টি গোপন রাখতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিভিন্ন সময়ে একইভাবে তাকে ধর্ষণ করেন।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি আবারও বিয়ের কথা বলে বাসায় গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এতে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানালে আসামি বিয়েতে টালবাহানা করতে থাকেন।
এরপর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাফরুল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী।
মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক আকলিমা আক্তার।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের ফলে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী একটি সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের দুই সপ্তাহ পর নবজাতকের ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়, শিশুটির জৈবিক পিতা আসামি জাহাঙ্গীর হোসেন।