বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

শূন্যরেখায় ৪ দিন আটকে ৯ বাংলাদেশি, অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা দিল বিজিবি-বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ১৩২ জন সংবাদটি দেখেছেন

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিজিবি-বিএসএফের ডাক্তার এসে আমার দুই শিশু সন্তানকে চিকিৎসা দিছে। এখন কিছুটা সুস্থ ওরা। কিন্তু এই ফাঁকা জঙ্গল-মাঠে আর কতদিন থাকব জানি না।’

কোলে অসুস্থ সন্তান নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় (নোম্যান্স ল্যান্ড) আটকে থাকা সুমি আক্তার।

গত চার দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা এই নারী বলেন, ‘আমাগো দ্রুত একটা ব্যবস্থা করে বাড়ি ফেরার সুযোগ করিয়া দ্যান। আমরা খুবই কষ্টে আছি।’

একই স্থানে আটকে থাকা হিমেল নামের এক যুবক বলেন, ‘বিজিবি-বিএসএফের ডাক্তার আইসা চিকিৎসা দিছে, এহন বাচ্চারাসহ সুস্থ আছি। কিন্তু কোনো দেশই তো আমাগো নিচ্ছে না। আমরা বাংলাদেশি, এ দেশে আমাগো ঘরবাড়ি, পরিবার আছে। দয়া করে আমাগো বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করেন।’

জানা গেছে, গত রোববার (১৪ জুন) আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ এস সাব-পিলার এলাকায় ভারতের ঝালোরচর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ৬ বাংলাদেশিকে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেয়।

একইভাবে ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে আরও ৩ বাংলাদেশিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে তারাও শূন্যরেখায় আটকা পড়ে।

ফলে বর্তমানে মোট ৯ বাংলাদেশি নাগরিক, যার মধ্যে ৫ মাস বয়সী এক শিশুও রয়েছে, সীমান্তের কাঁটাতারের মাঝখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, জীবিকার তাগিদে তারা বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

এদিকে আটকে পড়া মানুষদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় পোশাক সরবরাহ করছেন।

শৌলমারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোনা মিয়া বলেন, “চার দিন ধরে মানুষগুলো সীমান্তে আটকে আছে। আমরা চাই দ্রুত একটি মানবিক সমাধান হোক।”

গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মানবিক বিবেচনায় বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ মেডিকেল টিম শূন্যরেখায় অবস্থানরত অসুস্থ শিশু ও অন্যান্যদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গয়টাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার শফিকুল ইসলাম বলেন, “মানবিক কারণে দুই দেশের চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে সীমান্তে অবৈধ পুশইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com