বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

এশিয়ায় তীব্র দাবদাহ, মাঠেই ‌‘সিদ্ধ’ হয়ে যাচ্ছে আলু!

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

অভূতপূর্ব দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। দক্ষিণ কোরিয়া থেকে জাপান, হংকং, চীন ও উত্তর কোরিয়া পর্যন্ত অস্বাভাবিক তাপমাত্রা জনজীবনের পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। কোথাও মাটির নিচেই নষ্ট হচ্ছে আলু, কোথাও পচে যাচ্ছে তরমুজ। আবার একাধিক এলাকায় ভেঙেছে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং একে ‘আগে কখনো দেখা যায়নি এমন অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চরম আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে দেশের সংকট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নতুনভাবে সাজানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওন প্রদেশের ইয়াংগু কাউন্টিতে কৃষক লি সাং-হিউক তার ক্ষেতের আলু তুলতে গিয়ে দেখেন, প্রচণ্ড উত্তাপে মাটির নিচেই সেগুলো নরম হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অতিরিক্ত তাপে ক্ষেতের মাটি যেন ওভেনের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

শুধু আলু নয়, তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে অন্যান্য ফসলেও। গুয়াংজু অঞ্চলের তরমুজচাষি হং কিউং-হি জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছরের কৃষিজীবনে এমনভাবে ফল পচে নষ্ট হতে তিনি আগে কখনো দেখেননি।

দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান দাবদাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৯ লাখের বেশি গবাদিপশু এবং খামারে থাকা প্রায় ১৪ লাখ মাছ।

গত ২ আগস্ট দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। ১৯০৪ সালে আধুনিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই দেশটিতে রেকর্ড করা সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

জাপানেও দাবদাহ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির একাধিক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই অস্বাভাবিক যে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা প্রথমবারের মতো প্রচণ্ড উত্তপ্ত দিনের জন্য ‘কোকুশোবি’ বা ‘নির্মম উত্তপ্ত দিন’ নামে নতুন একটি শব্দ ব্যবহার করেছে।

তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে প্রাণীদের ওপরও। টোকিওর একটি চিড়িয়াখানায় দাবদাহে অসুস্থ হয়ে তিনটি সিংহের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

জাপান ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন সেন্টারের বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ছাড়া এমন তীব্র দাবদাহের ঘটনা প্রায় অসম্ভব ছিল। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব না থাকলে এ মাত্রার তাপপ্রবাহ গড়ে প্রায় ১০ হাজার বছরে একবার ঘটার মতো বিরল ঘটনা হতো।

হংকংয়েও তাপমাত্রা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে সেখানে তাপমাত্রা বেড়ে ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১৮৮৪ সালের পর সর্বোচ্চ বলে জানানো হয়েছে।

তবে এমন পরিস্থিতিতেও শ্রমিকদের জন্য চালু থাকা ‘হিট স্ট্রেস ওয়ার্নিং সিস্টেম’ সর্বনিম্ন সতর্কতার স্তরে থাকায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। হংকংয়ের সাবেক আবহাওয়া প্রধান লাম চিউ ইং এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছেছে। উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়েও রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামছে না।

জলবায়ু বিজ্ঞানীদের মতে, একাধিক প্রাকৃতিক আবহাওয়া ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব মিলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্যানেলের অন্যতম প্রধান লেখক এবং পুসান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জলবায়ুবিজ্ঞানী অধ্যাপক জুন-ই লির মতে, তিব্বত মালভূমি ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর সৃষ্ট উচ্চচাপ বলয়ের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে এই চরম তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করেছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এশিয়ায় উষ্ণায়নের গতি আগের তিন দশকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত কমানো না গেলে এবং তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কার্যকর অভিযোজন ব্যবস্থা গড়ে না তুললে বর্তমানে ‘অভূতপূর্ব’ হিসেবে বিবেচিত এমন দাবদাহ ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com