নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা নদীর ওপর নির্মিত একটি জরাজীর্ণ কাঠের সাঁকো পরিদর্শনে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। সাঁকোর একটি অংশ ভেঙে পড়লে তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী নদীতে পড়ে যান। এ ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকালে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের নাটাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার অক্ষত রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাউতারা নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে কোনো স্থায়ী সেতু না থাকায় নাটাবাড়িসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নদী পারাপারের জন্য স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা ছিল একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের অর্থায়নে সাঁকোটির সংস্কার ও নির্মাণকাজ করেন।
বুধবার সকালে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সাঁকোটি পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি সাঁকোর ওপর ওঠার পর তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মীও সেখানে ওঠেন। একপর্যায়ে অতিরিক্ত চাপ এবং কাঠামোর দুর্বলতার কারণে সাঁকোটির পেছনের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে কয়েকজন নেতাকর্মী নদীতে পড়ে যান।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন এবং নদীতে পড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। এতে কয়েকজনের জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় এবং অন্তত দুজন আহত হন।
নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ বলেন, “সাঁকোটি স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন। সংসদ সদস্য সেটি পরিদর্শনে গেলে তার সঙ্গে অনেকেই সাঁকোর ওপর ওঠেন। একপর্যায়ে সাঁকোটি ভেঙে কয়েকজন নিচে পড়ে যান।”
সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার বলেন, “এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে একটি কাঠের সাঁকো তৈরি করেছেন। আমি নেতাকর্মীদের নিয়ে সেটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা ওঠার পর পেছনের অংশ ভেঙে পড়ে। কয়েকজন পড়ে গিয়ে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেছেন এবং দুইজন আহত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে সরকারি অর্থায়নে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নাউতারা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ হলে দুই পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল সহজ হবে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গিয়ে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। দ্রুত সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।