মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪৯ জন সংবাদটি দেখেছেন

পর্তুগালে জনসমক্ষে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো নতুন আইনে অনুমোদন দেওয়ার পর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে মুখ ঢেকে পরিচয় গোপন করলে ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ‘বোরকা আইন’ হিসেবে পরিচিত এই আইনে এমন পোশাক পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা মুখ পুরোপুরি ঢেকে ফেলে বা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে। তবে স্বাস্থ্য, পেশাগত, শৈল্পিক ও আবহাওয়াজনিত কারণে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে ছাড় রাখা হয়েছে। উপাসনালয়, কূটনৈতিক মিশন ও উড়োজাহাজেও এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

আইনে কাউকে লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা বংশগত পরিচয়ের কারণে মুখ ঢাকতে বাধ্য করার বিষয়টিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো বলেছেন, মানুষের পরিচয় ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে মুখ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাঁর ভাষায়, মুখ খোলা রাখা পর্তুগিজ সমাজে সামাজিক আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

তবে আইনটি নিয়ে দেশটিতে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ডানপন্থী চেগা পার্টির উত্থাপিত প্রস্তাবটি জুলাইয়ে পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়। এতে ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোট ও কট্টর ডানপন্থীরা সমর্থন দিলেও বামপন্থী দলগুলো এর বিরোধিতা করে।

পর্তুগিজ বার অ্যাসোসিয়েশন, পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিল এবং পর্তুগিজ অ্যাসোসিয়েশন অব উইমেন লইয়ার্সসহ কয়েকটি আইনজীবী সংগঠনও প্রস্তাবটির সমালোচনা করে। তাদের কেউ কেউ আইনটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

মধ্য-বামপন্থী সোশ্যালিস্ট পার্টি, লিভ্রে ও পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টি সতর্ক করে বলেছে, এই আইন ইসলামোফোবিয়া বাড়িয়ে দিতে পারে। সোশ্যালিস্ট পার্টির অভিযোগ, প্রস্তাবটির ব্যাখ্যামূলক নথিতে ইসলামোফোবিয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল এবং এর ফলে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এমন সম্প্রদায়ের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

পর্তুগিজ কমিউনিস্ট পার্টির দাবি, প্রস্তাবটির সঙ্গে নারীর অধিকার বা নিরাপত্তার প্রশ্নের সম্পর্ক নেই, বরং এটি ভিন্ন ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং বৈষম্যমূলক মনোভাব বাড়াতে পারে।

লিভ্রের পক্ষ থেকেও ডানপন্থীদের অবস্থানের সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির অভিযোগ, নারীর অধিকার রক্ষার যুক্তি সামনে আনা হলেও এর মাধ্যমে পর্তুগালে কথিত ‘ইসলামি আগ্রাসন’ নিয়ে অযৌক্তিক আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে।

পর্তুগালের এই আইন ইউরোপে জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ বা সীমিত করার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, অস্ট্রিয়া, লুক্সেমবার্গ, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন আইনেও জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, ইউরোনিউজ

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com