কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া এবং গরম আবহাওয়ার কারণে আমন ধানের জমিতে পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেতের মাটি শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেচের প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ কৃষকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এতে আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
চলতি মৌসুমে চিলমারী উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী, আবাদ করা জমির প্রায় ৫০ শতাংশের পানি শুকিয়ে গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ আগস্ট পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেলায় মোট ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। এ সময়ে গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮১ শতাংশ।
রমনা ইউনিয়নের কৃষক মাজেদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বাড়তি খরচের কারণে জমিতে সেচ দেওয়া এখন তাদের জন্য অতিরিক্ত চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে সময়মতো পানি দিতে না পারলে ধানের গাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরেক কৃষক আইজল বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। আকাশে মেঘ দেখা যাচ্ছে না। ধারদেনা করে ধান লাগিয়েছি। এখন পানি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
পানির সংকট মোকাবিলায় কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ক্ষেতের মাটিতে যেন ফাটল তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিয়ে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তারা ভেজা ও শুকনা পদ্ধতিতে পর্যায়ক্রমে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুপুরের তীব্র গরমে সেচ না দিয়ে ভোরে অথবা বিকেলের পর জমিতে পানি দিতে বলা হয়েছে। এতে তাপের কারণে পানি দ্রুত বাষ্পীভূত হওয়ার পরিমাণ কমানো সম্ভব হতে পারে।
চিলমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় বলেন, ধানের বৃদ্ধির সময়ে পানির ঘাটতি দেখা দিলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে কুশির সংখ্যা কমে যাওয়া এবং জমিতে আগাছার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি হলেই জমির পানির ঘাটতি পুরোপুরি দূর হবে কি না, তা নির্ভর করবে বৃষ্টির পরিমাণ, স্থায়িত্ব এবং পরবর্তী কয়েক দিনের তাপমাত্রার ওপর।
আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক শামছুদ্দোহা বলেন, মৌসুমি অক্ষরেখা বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থান করা এবং মৌসুমি বায়ু তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকায় কুড়িগ্রামসহ রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে।