চট্টগ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মোহাম্মদ ইসমাইলকে সাংগঠনিক চারটি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মহানগর সংগঠন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোহাম্মদ ইসমাইল। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ ইসমাইল।
এক সিঙ্গাপুরপ্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে দলীয় পর্যায়ে তদন্ত করা হয়।
কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসীর স্বজনেরা তাঁদের সংগ্রহ করা বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ মহানগর জামায়াতের কাছে জমা দেন।
পরে দলীয় তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ অক্টোবর ইসমাইলকে চান্দগাঁও থানা আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
পরদিন, ৮ অক্টোবর, তাঁর পরিবর্তে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসমাইলকে মোট চারটি সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে চারটি পদের পূর্ণ তালিকা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট নারীর সিঙ্গাপুরপ্রবাসী স্বামী অভিযোগ করেছেন, ইসমাইলের বিরুদ্ধে বিষয়টি নিয়ে বেশি এগোলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তাঁর দাবি, এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর ওই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ হয়। কালের কণ্ঠের হাতে আসা নথির ভিত্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে কোনো মামলা বা পুলিশের তদন্ত হয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল।
তিনি বলেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি নির্দোষ।
অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মুহাম্মদ শাহজাহান জানিয়েছেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করেই মহানগর সংগঠন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
এ ঘটনায় দলীয় তদন্তের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশিত হলেও কোনো আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।