ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন জড়িত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আলজাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, হামলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ, যিনি দাউদ বিন ফয়সাল নামেও পরিচিত। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এবং আদাবর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন বলে পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
জুলকারনাইন আরও লেখেন, গত ৯ ডিসেম্বর একটি বৈঠকে ওসমান হাদির পাশেই বসে ছিলেন ওই ব্যক্তি। পোস্টে দেওয়া ছবিতে তাকে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তিনি সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ঘনিষ্ঠ অনুসারী বলেও দাবি করা হয়।
এর আগে দেওয়া আরেকটি পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেন, গত কয়েক মাসে পার্শ্ববর্তী দেশের একটি গোয়েন্দা সংস্থা অন্তত ৮০ জন পেশাদার আততায়ীকে বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে দেশে অনুপ্রবেশ করিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকে সামনে রেখে আন্ডারওয়ার্ল্ড চক্র, কুষ্টিয়া-মেহেরপুর অঞ্চলের চরমপন্থী গোষ্ঠী ও কিছু অপরাধী নেটওয়ার্ক একত্রিত হয়ে রাজনৈতিক প্রার্থী ও জনপ্রিয় নেতাদের লক্ষ্য করে সহিংসতার পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে বিভিন্ন অপরাধী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে টেলিফোন কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পোস্টের শেষাংশে জুলকারনাইন সায়ের বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।