কুড়িগ্রামে বাড়ছে নদ-নদীর পানি, এখনো বিপৎসীমার নিচে
সবশেষ আপডেট :
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
৩
জন সংবাদটি দেখেছেন
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে আপাতত বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রোববার (২১ জুন) সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদ-নদী পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি সকাল ৬টায় ২৪ দশমিক ২ মিটার থেকে বেড়ে সকাল ৯টায় ২৪ দশমিক ৫ মিটারে পৌঁছেছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ৫ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। সকাল ৬টায় ২৯ দশমিক ৭৮ মিটার থাকলেও সকাল ৯টায় তা কমে ২৯ দশমিক ৭৫ মিটারে নেমে এসেছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৩০ দশমিক ৮৭ মিটার।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি সকাল ৬টায় ২৮ দশমিক ৩৫ মিটার থেকে বেড়ে সকাল ৯টায় ২৮ দশমিক ৩৯ মিটারে দাঁড়িয়েছে। এ নদীর বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সকাল ৬টায় ২৩ দশমিক ৭৬ মিটার থেকে বেড়ে সকাল ৯টায় ২৩ দশমিক ৭৭ মিটারে পৌঁছেছে। একই সময়ে চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২১ দশমিক ৪০ মিটার থেকে বেড়ে ২১ দশমিক ৪১ মিটারে দাঁড়িয়েছে। নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৬ দশমিক ৫০ মিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২৩ দশমিক ২৫ মিটার। তবে এসব এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি।
কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি সামান্য কমেছে। সকাল ৬টায় ২৯ দশমিক ৫০ মিটার থাকলেও সকাল ৯টায় তা কমে ২৯ দশমিক ৩০ মিটারে নেমে এসেছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার কয়েকটি নদীর পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বর্তমানে সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকায় তাৎক্ষণিক বন্যার আশঙ্কা নেই। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং পানি বৃদ্ধির সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।