মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজানের

ঐতিহাসিক বদর দিবস আজ

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬৭ জন সংবাদটি দেখেছেন

রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের এক বিশেষ সময়। এই পবিত্র মাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তেমনই এক গৌরবময় স্মৃতি হলো ঐতিহাসিক বদর দিবস।

হিজরি দ্বিতীয় সনের ১৭ রমজান মদিনা থেকে প্রায় ৭০ মাইল দূরের বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল সত্য ও মিথ্যার এক ঐতিহাসিক লড়াই—বদরের যুদ্ধ। ইসলামের ইতিহাসে এটি প্রথম বড় সামরিক সংঘর্ষ, যা মুসলমানদের জন্য বিজয়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।

প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মাত্র ৩১৩ জন সাহাবি এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তাদের অনেকের কাছেই পর্যাপ্ত অস্ত্র বা যুদ্ধের সরঞ্জাম ছিল না। অন্যদিকে কুরাইশদের পক্ষ থেকে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জাহেলের নেতৃত্বে প্রায় এক হাজার সুসজ্জিত সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়েছিল।

সংখ্যা ও শক্তির দিক থেকে এটি ছিল এক অসম লড়াই। কিন্তু আল্লাহর ওপর অটল বিশ্বাস, সাহস ও ত্যাগের কারণে মুসলমানরা এই যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেন।

যুদ্ধের আগে রাসুলুল্লাহ (সা.) গভীর আবেগ নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন— “হে আল্লাহ! যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে পৃথিবীতে তোমার ইবাদত করার কেউ থাকবে না।”

আল্লাহতায়ালা তাঁর প্রিয় নবীর সেই দোয়া কবুল করেন এবং মুসলমানদের বিজয় দান করেন। বদরের যুদ্ধে কুরাইশদের ৭০ জন নিহত এবং ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্যে ১৪ জন সাহাবি শহীদ হন।

মদিনায় হিজরতের দ্বিতীয় বছরে আল্লাহতায়ালা অত্যাচারিত মুসলমানদের আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধের অনুমতি দেন। কুরআনের সুরা হজে এ বিষয়ে বলা হয়েছে—যাদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে, তাদের যুদ্ধের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ অবশ্যই তাদের সাহায্য করতে সক্ষম।

বদরের বিজয় শুধু একটি সামরিক সাফল্য ছিল না; এটি ছিল ন্যায়, সত্য ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সেই বিজয় ইসলামের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং সত্যের পথে সংগ্রামরত মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

প্রতিবছর ১৭ রমজান বিশ্ব মুসলিম গভীর শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে স্মরণ করে বদরের সেই ঐতিহাসিক বিজয়কে। বদরের শহীদদের আত্মত্যাগ মুসলমানদের শিক্ষা দেয়—সংখ্যা বা শক্তি নয়, বরং সত্যের প্রতি দৃঢ়তা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা-ই প্রকৃত বিজয়ের পথ দেখায়।

বদর দিবসের শিক্ষা হলো শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের আদর্শকে ধারণ করা। এই আদর্শ অনুসরণ করেই মানবতার কল্যাণে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। লেখক: গবেষক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com