১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা এবং অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভায় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় পুলিশ কমিশনার মুঃ মাহবুবুর রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আবদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মারুফ আহমেদ এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) সনাতন চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টি রংপুর মহানগরের সদস্য সচিব মোঃ গোলজার হোসেন, রংপুর বিভাগীয় কমিটির সদস্য মোঃ মাহবুবার রহমান মাহবুব, এনসিপি রংপুর জেলার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আল মামুন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম খলিল এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির জেলা সম্পাদক মোঃ শাহিনুর আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় নেতারা লংমার্চ ও সমাবেশকে ঘিরে তাদের বিভিন্ন উদ্বেগ, প্রত্যাশা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পুলিশ কমিশনারের কাছে তুলে ধরেন।
পুলিশ কমিশনার মুঃ মাহবুবুর রশীদ বলেন, বড় কোনো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আয়োজকদের যেমন প্রস্তুতি ও উদ্বেগ থাকে, তেমনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ লংমার্চ ও সমাবেশে অংশ নেবেন। তাদের নিরাপদে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং শেষে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তিনি বলেন, কর্মসূচি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আরপিএমপি আয়োজক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা নিয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ঘাটতি যাতে না থাকে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, কর্মসূচি চলাকালে কোনো বিষয়ে অসুবিধা বা সমন্বয়ের প্রয়োজন হলে আয়োজক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেবে। জনসাধারণের চলাচল ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক ব্যবস্থাপনা ও চলাচল নিয়েও সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী, আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তিনি। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ কমিশনার।
সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ আরপিএমপির পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কর্মসূচি সফল ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।