গরম ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি বাঙালির খাবার সংস্কৃতির একটি পরিচিত অংশ। শুধু স্বাদ ও সুগন্ধ নয়, ঘি শরীর ও মস্তিষ্কের জন্যও নানা উপকার বয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা। আয়ুর্বেদে ঘিকে দীর্ঘদিন ধরেই স্মৃতিশক্তি ও মেধা বৃদ্ধির উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক গবেষণাও এর কিছু উপকারিতার পক্ষে তথ্য তুলে ধরছে।
ঘিতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কোষের গঠন ও কার্যকারিতায় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের একটি বড় অংশই চর্বি দিয়ে গঠিত হওয়ায় পরিমিত স্বাস্থ্যকর চর্বি স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং শেখার ক্ষমতা উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।
ঘিতে থাকা বিউটাইরিক অ্যাসিড অন্ত্রের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়। এটি হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে এবং অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুস্থ অন্ত্র মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘিতে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে রয়েছে। বিশেষ করে ভিটামিন ই কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ফলে বয়সজনিত কিছু শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
গরম ভাতে অল্প পরিমাণ ঘি মিশিয়ে খেলে খাবারের স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি থাকতে পারে। এতে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কিছুটা কমে।
পুষ্টিবিদদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক ১ থেকে ২ চা-চামচ (প্রায় ১০-১৫ মিলি) ঘি যথেষ্ট। তবে যাদের হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা বা উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঘি খাওয়া উচিত।
ঘি উপকারী হলেও এটি উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবার। অতিরিক্ত ঘি খেলে ওজন বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পরিমিত পরিমাণে গরম ভাতের সঙ্গে ঘি খাওয়া স্বাদ বৃদ্ধির পাশাপাশি মস্তিষ্ক, হজম ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য কিছু উপকার বয়ে আনতে পারে। তবে অতিরিক্ত নয়, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই ঘি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।