সকালে ঘুম ভাঙার পর এক কাপ কফি অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। তবে কফি ব্ল্যাক খাওয়া ভালো, নাকি দুধ মিশিয়ে খাওয়া বেশি উপকারী, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, কফির সঙ্গে দুধ মেশালে কিছু অতিরিক্ত স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে, যদিও সবার জন্য এটি সমানভাবে উপযোগী নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, দুধের প্রোটিন ও অ্যামিনো অ্যাসিড কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পলিফেনলের সঙ্গে মিলিত হয়ে শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংমিশ্রণ জয়েন্টের ব্যথা, আর্থ্রাইটিস বা প্রদাহজনিত কিছু সমস্যায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অনেকের ক্ষেত্রে ব্ল্যাক কফি খেলে অ্যাসিডিটি বা পেটে অস্বস্তি দেখা দেয়। দুধ মেশালে কফির অম্লতা কিছুটা কমে, ফলে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া বা অস্বস্তির ঝুঁকিও কমতে পারে।
দুধযুক্ত কফি শরীরে ক্যাফেইনের শোষণ তুলনামূলক ধীর করতে পারে। ফলে অতিরিক্ত অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে।
দুধ যোগ করার ফলে কফিতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যুক্ত হয়। এতে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও কিছুটা উপকার পাওয়া যায়।
যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, তাদের জন্য দুধযুক্ত কফি পেট ফাঁপা, গ্যাস বা হজমজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত দুধ, চিনি বা ক্রিমযুক্ত কফি ক্যালরি বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনটি ভালো হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক অবস্থার ওপর।
কফি যেভাবেই পান করা হোক না কেন, পরিমিত মাত্রায় পান করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দিনে ২-৩ কাপ কফি অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য নিরাপদ বলে মনে করা হয়। তবে ঘুমের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।