রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতায় উসকানিমূলক প্রচারণা এবং নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমে অর্থায়নের অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ এবং লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা।
রোববার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের পল্লবী জোনাল টিমের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা, অর্থ সংগ্রহ এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁদের সহযোগীদের নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ইউনিটি কেয়ার পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ রয়েছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে।
এজাহারে দাবি করা হয়েছে, এসব যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন এবং সরকার ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশের মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ‘কালআজকাল ডটকম’ নামের একটি অনলাইন পেজ ব্যবহার করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছিল।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো এবং সেসব কার্যক্রমে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে অবৈধ অর্থায়ন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর বিভিন্ন ধারায় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তাঁরা সহযোগীদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
মামলার এজাহারে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে অতীতের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন।
এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ নামের একটি কমিটি গঠন এবং ওই সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক সমর্থন প্রকাশের ঘটনা এবং মামলায় উল্লিখিত অপরাধের অভিযোগ পৃথক বিষয়। অভিযোগের আইনগত ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অপরাধে সম্পৃক্ততা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে তাঁদের আদালতে হাজির করা, রিমান্ড আবেদন কিংবা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দেওয়া তথ্যে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
একইভাবে গ্রেপ্তার দুই কর্মকর্তার পক্ষ থেকে মামলার অভিযোগ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।