গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পরদিন মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে শিশুটির পরিবারের বাসায় গিয়েছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০)। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে ফিরে যান তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। এদিকে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, মামলা করার পর থেকে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং অভিযোগ তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় সাত বছরের এক মেয়েশিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে।
এর পরদিন, ২০ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির পরিবারের বাসায় যান অভিযুক্ত শিক্ষক।
ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ৩৮ মিনিটে লাল রঙের একটি ব্যাগ হাতে ভবনে প্রবেশ করেন তিনি।
নিচতলায় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর লিফটের দিকে এগিয়ে যান। দুপুর ১২টা ৩৯ মিনিটে তাঁকে লিফটে উঠতে দেখা যায়।
কিছুক্ষণ পর নিচে নেমে একই ব্যাগ হাতে ভবন থেকে বের হয়ে যান তিনি।
অন্য একটি ফুটেজে তাঁর হাতে থাকা ব্যাগের ভেতর মিষ্টির প্যাকেট দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসায় গিয়ে দেখা করতে না পেরে শিশুটির মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি বার্তা পাঠান অভিযুক্ত শিক্ষক।
২০ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে পাঠানো ওই বার্তায় তিনি জানান, শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য বাসার দরজার সামনে অপেক্ষা করছেন।
তবে সে সময় শিশুটির বাবা বাসায় ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত পরিবারের কারও সঙ্গে দেখা না করেই ফিরে যান অভিযুক্ত শিক্ষক।
বর্তমানে তিনি কারাগারে থাকায় কেন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাঁরা বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে রয়েছেন।
শিশুটির বাবা জানিয়েছেন, পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে অভিযোগ তুলে নিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও সরিয়ে ফেলতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
তাঁর দাবি, এসব কারণে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁর প্রতিবাদ কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী বা আলেম সমাজের বিরুদ্ধে নয়; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের দাবিতে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতার সমর্থনে তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তবে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শিশুটির বাবা ও স্থানীয় কয়েকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) তাঁর জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করেন।
শিশুটির পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, দুই পক্ষই থানায় মৌখিকভাবে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তবে সোমবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে শিশুটির পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।