নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে দেশের ‘শতাব্দীর নির্বাচন’ হিসেবে বিবেচনা করছে। বৃহৎ এই আয়োজন সফল করতে মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিচার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
রোববার (৩০ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য দেন তিনি। বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, ঋণখেলাপি যাচাই, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার তালিকা প্রস্তুত, আগাম পোস্টার-ব্যানার অপসারণসহ ২২টি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
ইসি সচিব জানান, ভোটারদের দীর্ঘসময় অপেক্ষা কমাতে একটি ভোটকক্ষে দুইটি গোপন কক্ষ (স্ট্যাম্পিং বুথ) স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে ভোট দেওয়ার সময় কমবে এবং কেন্দ্রের ভিড় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তার মতে, বুথের সংখ্যা বাড়ানো হলেও ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসী ভোটারদের জন্য বন্ধ থাকা নিবন্ধন প্রক্রিয়া আবার চালু হয়েছে। ইতোমধ্যে ২ লাখ ১০ হাজারের বেশি প্রবাসী ইসির অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন এবং প্রায় ১ লাখ ভোটার নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। তথ্য সংশোধনের জন্য ‘এডিট মোড’ও চালু করা হয়েছে।
ভোটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্থানীয় প্রভাবশালীদের আতিথ্য গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা হবে। এ কারণে তাদের ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের সরকারি প্রেসে ব্যালট পেপার ছাপা এবং প্রবাসী ভোটের ব্যালট সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা প্রেসে প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানান সচিব।
এছাড়া প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক ভোটারদের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণভোট, বিদেশি ভোটদান, এআই অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং ভোটার শিক্ষায় প্রচারণা বাড়ানো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, ভোটের তারিখ ঘোষণার পর মূল কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ এলে তা পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।