বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুব শিগগিরই দেশে ফিরতে পারেন বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপরই তারেক রহমানের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণের পর পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার প্রয়োজন হলে সে সিদ্ধান্তও পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া হবে।’
এর আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সরকার প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, এখনো তারেক রহমান ট্রাভেল পাসের জন্য আবেদন করেননি, আবেদন করলেই তা ইস্যু করা হবে। খালেদা জিয়াও চাইলে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন—এমনটিও জানান তিনি।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা জটিল আকার ধারণ করলে গত ২৭ নভেম্বর থেকে তাঁকে সিসিইউতে রাখা হয়। দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা পরিচালনা করছে।
হাসপাতাল চত্বরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মাঝরাত থেকেই পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।
দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি ছিলেন খালেদা জিয়া। ২০২০ সালের মার্চে নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি। গত আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন। এরপর লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন।