দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু আয় ৩ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা।
বুধবার (১০ জুন) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে Bangladesh Bureau of Statistics (বিবিএস)।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। ডলারের হিসাবে যা ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর ফলে দেশের অর্থনীতির আকারও প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
আগের অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। ডলারপ্রতি ১২২ টাকা ১৪ পয়সা বিনিময় হার ধরে জিডিপির হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এছাড়া শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।
অন্যদিকে গত অর্থবছরে দেশের মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে তা ২৫১ ডলার বেড়ে ৩ হাজার ২০ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
বিবিএসের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হওয়া এবং মাথাপিছু আয় ৩ হাজার ডলারের সীমা অতিক্রম করা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকা এবং জিডিপির তুলনায় জাতীয় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার কিছুটা হ্রাস পাওয়া সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।