সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

পঞ্চগড়ে ভাই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের প্রতিশোধে হত্যার পরিকল্পনা: পুলিশ

  • সবশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ জন সংবাদটি দেখেছেন

পঞ্চগড়ে ১৯ বছর বয়সী মানিক হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বড় বোনের ওপর যৌন নির্যাতন ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জেলা পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দীঘি থেকে মানিক হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের ২৪ বছর বয়সী বড় বোন এবং একই এলাকার শাহাবুদ্দিন (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর নিহতের বড় বোন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মানিক তার বড় বোনকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করতেন। এ সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নির্যাতনের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে বড় বোন ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন তিনি পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে মানিককে পান করান। ওষুধের প্রভাবে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে তার কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট গুঁজে দেওয়া হয়। পরে সহযোগী শাহাবুদ্দিন তাকে হত্যা করে মরদেহ মহারাজার দীঘিতে ফেলে দেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

তদন্ত চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটের লেখার সঙ্গে নিহতের বড় বোনের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা একটি ক্যালেন্ডারের লেখার মিল পাওয়া যায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফরহাদ হোসেন বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের জোরপূর্বক শারীরিক নির্যাতনের ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমেই অভিযুক্তদের দায়-দায়িত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com