তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন, দুই সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন ২৫ বসতবাড়ি
সবশেষ আপডেট :
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬
৩৩
জন সংবাদটি দেখেছেন
তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করতেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নে আবারও ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
এছাড়া ভাঙনের মুখে পড়েছে মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদ ও পূর্ব চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার আতঙ্ক ও চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বসতভিটা রক্ষায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর অস্থায়ীভাবে ভাঙনরোধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিস্তার স্থায়ী ভাঙনরোধে এখনো কোনো কার্যকর প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয় চরাঞ্চলের হাজারো মানুষকে।
ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা আনছার আলী বলেন, “নদীভাঙন এখন আমাদের নিত্যদিনের আতঙ্ক। প্রতিদিনই জমি আর বসতভিটা নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের আর থাকার জায়গা থাকবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাইদুল ইসলাম দাবি করেন, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের আতঙ্ক ও মানসিক চাপে একই গ্রামের আব্দুল কাদের (৭০) ও আব্দুস সালাম (৬০) মারা গেছেন।
ছবুর আলী (৬৫) বলেন, “আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভেঙে গেছে। কিন্তু আজও স্থায়ী কোনো সমাধান পাইনি। প্রতি বছর নতুন করে ঘর বানাই, আবার নদী তা কেড়ে নেয়।”
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম জানান, ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শুকনো খাবার এবং ৭ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল হাসান বলেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নদীভাঙন প্রতিরোধে ৩ হাজার জিওব্যাগ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ ইতোমধ্যে চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।