জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত থেকে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা বিভিন্ন পাম্পে ভিড় করেন। অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে জারকিনে মজুতেরও চেষ্টা করেন।
তবে প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি কিংবা অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা ঠেকাতে মাঠে অভিযান চালানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রুয়েট গেটসংলগ্ন নয়ান ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ জনের বেশি মোটরসাইকেল চালক তেল নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। রাত সোয়া ১২টার দিকে মোটরসাইকেলের সংখ্যা কিছুটা কমলেও ১০ থেকে ১২টি ব্যক্তিগত গাড়ি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল।
নয়ন ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, রাত ৮টার পর থেকেই ক্রেতার চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
এদিকে নগরীর কুমারপাড়ার গুল গফুর ফিলিং স্টেশন ও সাগরপাড়ার আফরিন ফিলিং স্টেশনে রাতে তেল বিক্রি বন্ধ রাখা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল থেকে স্বাভাবিকভাবে বিক্রি শুরু হবে।
একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে দুর্গাপুর উপজেলাতেও। বিকেল থেকে তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বিক্রি হওয়ায় কয়েকটি পাম্পে সাময়িকভাবে জ্বালানির মজুত শেষ হয়ে যায়। এতে গুজব আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি জারকিনে করে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করছেন। দুর্গাপুরের একটি ফিলিং স্টেশন থেকে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে জারকিনে এবং একজনকে ভ্যানে করে জ্বালানি বহন করতে দেখা যায়। এতে অতিরিক্ত মজুত ও পরে বেশি দামে বিক্রির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই। গুজবের কারণে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কয়েকটি পাম্পে সাময়িকভাবে মজুত শেষ হয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে এবং নিয়মিত নতুন জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার রাতেই বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন।
দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়া নূর তানজু বলেন, জ্বালানি তেলের বিক্রয় পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি বা অযৌক্তিকভাবে মূল্য বাড়ানোর চেষ্টা করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গুজবে কান না দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল কেনার জন্য সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে। বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে না দিতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।