টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও সরবরাহ সংকটের প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিমের দাম। অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় সবজির ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ঢাকার বাজারে কাঁচা সবজির সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে দেখা যায়, কচুর লতি প্রতি কেজি ১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ১২০ টাকা, উচ্ছে ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ১০০ টাকা এবং জালি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। এছাড়া টমেটো ১৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং শসা মানভেদে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা সোলাইমান নামে এক ক্রেতা বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহে কিছুটা সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের পক্ষে বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
তিনি বাজার তদারকি জোরদারেরও দাবি জানান।
কয়েকদিন আগেও খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি ৬০ টাকা এবং মাঝারি মানের পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারে প্রতি পাঁচ কেজি (এক পাল্লা) পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা।
বিক্রেতা নিশান আহমেদ বলেন, “পাবনা, ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া থেকে পেঁয়াজ আসে। বৃষ্টির কারণে পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। আমরা বেশি দামে কিনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
বাজারে ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ১৩০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ, যা কিছুদিন আগেও ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা কেজি ছিল, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়।
এছাড়া তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ইলিশের সরবরাহও কম। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
ক্রেতা মিনহাজ রহমান বলেন, “সবকিছুর দাম এমনিতেই বেশি। এখন বৃষ্টির অজুহাতে মাছসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
বিক্রেতাদের দাবি, টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাবেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে।