ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি নাকচ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, অভিযোগটি ফিফার অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় এ বিষয়ে তদন্ত করার এখতিয়ার আইওসির নেই।
আইওসি এক বিবৃতিতে জানায়, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ মূলত ফিফার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এবং ফুটবলের নিয়ম বাস্তবায়নের বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব বিষয় আইওসির নৈতিকতা বিধির আওতায় পড়ে না।
বিতর্কের সূত্রপাত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তার নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে সেই এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ১২ মাসের জন্য স্থগিত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সিদ্ধান্তের পর মানবাধিকারভিত্তিক প্রচারণা সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার আইওসির কাছে অভিযোগ জানায়। তাদের দাবি, ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দেখিয়ে ইনফান্তিনো অলিম্পিক সনদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করেছেন। ২০২০ সাল থেকে তিনি আইওসির সদস্য।
অলিম্পিক সনদের দ্বিতীয় ধারায় বলা হয়েছে, আইওসির সদস্যরা কোনো সরকার, সংস্থা বা অন্য কোনো পক্ষের এমন নির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন না, যা তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা ভোটদানে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ফেয়ারস্কয়ারের অভিযোগ পর্যালোচনা করে আইওসি জানায়, ফিফা একটি স্বাধীন সংস্থা এবং তাদের কর্মকর্তা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত তদন্ত করার এখতিয়ার অলিম্পিক কমিটির নেই।
এদিকে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফিফার নৈতিকতা কমিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস বিবিসিকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাদের সংস্থা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরবর্তী বোর্ড সভায় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।