দলবাজি পরিত্যাগ করে পেশাদারিত্বকে সমন্বিত রেখে কোন সরকারের লেজুরবৃত্তি না করে এমনকি নিজের মতাদর্শের সরকারের চোখে চোখ রেখে কথা লিখতে বলতে পারলেই আর্থিক ও এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।
শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রংপুর টাউন হলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের অনুদান বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত ‘সাংবাদিকদের আর্থিক সুরক্ষা, কল্যাণে করণীয় এবং গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যেে এই মন্তব্য করেন তিনি।
রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরপিইউজে) ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ আয়োজনে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সমাবেশে রংপুরসহ আশপাশের জেলার তিন শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। সঞ্চালনা করেন আরপিইউজের সাধারণ সম্পাদক সরকার মাজহারুল মান্নান।
সমাবেশে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ বলেন, “আপনার ব্যক্তিগত মতাদর্শ থাকা স্বাভাবিক। BNP, Awami League বা যেকোনো দলের প্রতি সমর্থন থাকতে পারে। কিন্তু পেশার ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব চলতে পারে না। দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সরকারি দায়িত্বে থেকেও নির্মোহভাবে লিখছি। সরকারি বা বিরোধী—যেখানেই ভুল দেখি, প্রকাশ করি। এতটুকু সৎ সাহস থাকতে হবে সাংবাদিকদের।”
ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, সাংবাদিকতা পেশায় আসার সুযোগ তৈরি করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। “বাকশালের চার পত্রিকার যুগ থেকে তিনি গণমাধ্যম উন্মুক্ত না করলে আমরা সাংবাদিকতা করতে পারতাম না।”
বক্তব্যে তিনি অবিভক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনোয়ার জাহিদ, নির্মল সেন, এবিএম মুসা ও মোস্তফা কামাল হায়দারের উদাহরণ টেনে বলেন— “তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, কিন্তু সাংবাদিকতায় কখনো দলকে ঢুকতে দেননি। আমরা আজ দলকে সাংবাদিকতার সঙ্গে একাকার করে ফেলেছি, তাই দুর্ভোগ বাড়ছে।”
সমাবেশে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত “গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন অধ্যাদেশ–২০২৫” এবং “সাংবাদিক সুরক্ষা অধ্যাদেশ” সংশোধন করে বাস্তবায়নের দাবি ওঠে। আবদুল্লাহ জানান, খসড়ায় বাদ পড়া অনেক বিষয় পুনরায় সংযোজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার আগেই সাংবাদিকদের দাবির সঙ্গে আমরাও একাত্ম। সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি জানান, অতি শিগগিরই প্রবীণ সাংবাদিকদের অনুদানের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে, সাংবাদিকদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির নতুন বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ হবে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও দিনাজপুরের সাংবাদিক প্রতিনিধিরা। বক্তারা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা আইন কার্যকর করা এবং আর্থিক সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানান।
শেষে রংপুর জেলার ১৯ জন সাংবাদিকের মধ্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের চেক বিতরণ করেন মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।