ক্যানসার নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থাকলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও কিছু ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস এড়িয়ে চলার মাধ্যমে কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং তামাক-অ্যালকোহলের মতো ঝুঁকির বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসক ড. এরিক বার্গের কয়েকটি জীবনযাপনভিত্তিক পরামর্শ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব অভ্যাস ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না এবং চিকিৎসকের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের বিকল্পও নয়।
খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনি ও উচ্চমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে ফল, শাকসবজি, ডাল, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সহায়তা করতে পারে, যা কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তবে ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য বেশি সময় রোদে থাকা নিরাপদ—এমন ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ভিটামিন ডির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও প্রয়োজন হলে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা চললেও এটিকে ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চিত উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। দীর্ঘ সময় উপবাস সবার জন্য উপযুক্তও নয়। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী কিংবা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারীদের এ ধরনের খাদ্যাভ্যাস শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম সামগ্রিক সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো কিংবা অন্যান্য ব্যায়াম শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে। নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম, বিশ্রাম এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো মানসিক চাপ সামলাতে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু মানসিক চাপ কমালেই ক্যানসার প্রতিরোধ করা যাবে—এমন সরাসরি দাবি করার যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি তামাক থেকে দূরে থাকা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং বয়স ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্যানসার স্ক্রিনিং গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো একটি খাবার, সাপ্লিমেন্ট বা বিশেষ জীবনযাপন পদ্ধতি ক্যানসার থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারে না। তাই ব্যক্তিগত ঝুঁকি বা কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস