গতকাল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত আট দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গতকাল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে আয়োজিত আট দলের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘এই বিপ্লবের ভিত্তিতে আগামী বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ার জন্যই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে। জুলাই সনদ কোনো কাগজের সনদ হিসেবে আমরা দেখতে চাই না। জুলাই সনদকে আমরা আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা হিসেবে দেখতে চাই। এজন্য আমরা বলছি অবিলম্বে সরকারি আদেশের মাধ্যমে প্রাথমিক আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এর পরে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদকে চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি দিতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে জুলাই বিপ্লবপন্থিরা বরদাস্ত করবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগামী ১৩ তারিখ জুলাই সনদের গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারি সিদ্ধান্তের দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। সরকার যদি জনগণের শান্তিপ্রিয় ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যেই ভাষায় বললে সরকার বুঝবে আমরা সেই ভাষায় প্রয়োগ করব। আমরা যুদ্ধ করে হাসিনাকে বিতাড়িত করেছি, আবার যুদ্ধ করে বাংলার মানুষের অধিকার আদায় করে ছাড়ব।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুছ আহমাদ, জ্যেষ্ঠ প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজাদ্দিদ বিল্লাহ আল মাদানি, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব মো. কাজী নিজামুল হক প্রমুখ।
আটদলীয় শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে দুই সিদ্ধান্ত : জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় শীর্ষ নেতাদের এক বৈঠকে আজ ১২ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলোচনায় গণভোটের ব্যাপারে’ ফলপ্রসূ কোনো সিদ্ধান্ত না এলে কঠোর কর্মসূচির গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল পল্টনে বিশাল সমাবেশের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে জামায়াত ইসলামীসহ আটদলীয় শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বৈঠকে জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ও জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের ব্যাপারে দেশে চলমান আন্দোলনের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর চরমোনাই, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা সারওয়ার কামাল আজিজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা জালাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, নিজামুল হক প্রমুখ।