মুম্বাইয়ের চেম্বুরের মাত্র ২৫০ বর্গফুটের ছোট্ট একটি রেস্তোরাঁ। টেবিল ছিল মাত্র তিনটি, বসার সুযোগ ছিল ৯ জনের। ব্যবসা শুরুর কিছুদিন পরই বিক্রি কমতে কমতে এমন অবস্থায় পৌঁছায় যে, প্রায় ১৮ লাখ রুপি ঋণের বোঝায় রেস্তোরাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছিলেন মালিক দুই ভাই।
কিন্তু একটি খাবারের অর্ডার বদলে দেয় পুরো পরিস্থিতি। ক্রিকেটার বিরাট কোহলির জন্য ছোলে ভাটুরে অর্ডার করেছিলেন অভিনেত্রী আনুশকা শর্মা। এরপর আনুশকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ছোট্ট সেই রেস্তোরাঁ।
রেস্তোরাঁটির নাম ‘দিল্লি সে’। দুই ভাই জাসপাল সিং খালসা ও মহিন্দর সিং খালসা ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর মুম্বাইয়ে দিল্লির ঐতিহ্যবাহী স্বাদের খাবার পরিবেশনের লক্ষ্য নিয়ে এটি চালু করেন।
তবে শুরুটা ভালো হলেও কয়েক মাস পর ব্যবসায় ধস নামে। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে বিক্রি কমতে থাকে। ওই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ তাদের প্রায় ১৮ লাখ রুপি ঋণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ব্যবসা বন্ধ করার পরিকল্পনা করেন তারা।
ঠিক সেই সময় রেস্তোরাঁয় খেতে যান স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান অভিষেক উপমন্যু। খাবার খেয়ে তিনি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করলে কিছুটা পরিচিতি পেতে শুরু করে ‘দিল্লি সে’।
এরপর আসে বড় সুযোগ।
বিরাট কোহলির জন্য মুম্বাইয়ে দিল্লির স্বাদের ছোলে ভাটুরে খুঁজছিলেন আনুশকা শর্মা। অভিষেকের পোস্ট দেখে কোহলির বাড়ি থেকে রেস্তোরাঁটিতে দুই প্লেট খাবারের অর্ডার দেওয়া হয়।
প্রতি প্লেট ছোলে ভাটুরের দাম ছিল ১২০ রুপি। চেম্বুর থেকে জুহুতে খাবার পৌঁছে দিতে হবে শুনে প্রথমে বিষয়টিকে প্রতারণা মনে করেছিলেন জাসপাল। পরে ৫ অক্টোবর দুই ভাই নিজেরাই খাবার পৌঁছে দেন।
খাবার খেয়ে সন্তুষ্ট হন আনুশকা। এরপর ইনস্টাগ্রামে তিনি ‘একদম দিল্লির মতো ছোলে ভাটুরে’ পাওয়ার কথা জানান এবং খাবারটির সন্ধান দেওয়ার জন্য অভিষেক উপমন্যুকেও কৃতিত্ব দেন।
এরপরই বদলে যায় রেস্তোরাঁটির চিত্র।
মালিকদের দাবি, আনুশকার পোস্টের পর মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই রেস্তোরাঁয় ক্রেতাদের ভিড় শুরু হয়। একসঙ্গে ছয় থেকে ১০ প্লেট পর্যন্ত খাবারের অর্ডার আসতে থাকে। দুই-তিন প্লেট খাবারের জন্যও অনেক ক্রেতাকে দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করতে হয়েছে।
ছোট রান্নাঘরে এত অর্ডার সামলানো কঠিন হয়ে পড়লে প্রতিবেশীদেরও সহায়তা নিতে হয় দুই ভাইকে। এমনকি বাড়িতেও ছোলা ভিজিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়।
মালিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে প্রতিদিন ছোলা রান্নার পরিমাণ ৮ কেজি থেকে বেড়ে ১০০ কেজিতে পৌঁছে যায়।
বর্তমানে চেম্বুরের মূল শাখার পাশাপাশি মুম্বাইয়ের মুলুন্দ, আন্ধেরি ওয়েস্ট ও ভাশিতে আরও তিনটি শাখা চালু হয়েছে। চারটি শাখা মিলিয়ে প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি প্লেট খাবার বিক্রি হয় বলে দাবি মালিকদের।
তাদের দাবি, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১২৫ কেজি ছোলা ভেজানো হয়, যা রান্নার পর প্রায় এক টনে পৌঁছায়। ব্যবসার দুর্দিনে যেখানে মাসে বিক্রি হতো মাত্র এক থেকে দেড় লাখ রুপি, এখন তা বেড়ে প্রায় দুই কোটি রুপি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
অর্থাৎ, বন্ধ হওয়ার পথে থাকা একটি ছোট রেস্তোরাঁর ভাগ্য বদলে যায় মূলত একটি খাবারের অর্ডার এবং পরবর্তী একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের মাধ্যমে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া