ধর্ম ডেস্ক | রমজান মাসের পরপরই আসে শাওয়াল মাস। ইসলাম ধর্মে এই মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলতের কথা সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখল, এরপর শাওয়ালে ছয়টি রোজা রাখল — সে পুরো বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৬৪)
এই হাদীস অনুযায়ী শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা অত্যন্ত পুণ্যময় একটি আমল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু লেখনী ও বইয়ে এই রোজা নিয়ে অতিরঞ্জিত ও ভিত্তিহীন ফজিলত প্রচার করা হচ্ছে, যা ইসলামী সূত্রে পাওয়া যায় না।
‘বারো চাঁদের ফজিলত’ নামে একটি বইয়ে শাওয়ালের ছয় রোজা সম্পর্কে বলা হয়েছে— “যে ব্যক্তি শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখবে, তার আমলনামায় প্রতি রোজার জন্য এক হাজার সওয়াব লেখা হবে।” “আল্লাহ তাআলা তার আমলনামায় সমগ্র উম্মতে মুহাম্মাদীর নেকির সওয়াব লিখবেন।” “আল্লাহ তাআলা জান্নাতে তার জন্য লাল ইয়াকুত পাথরের শহর দান করবেন, যার সামনে দুধ ও মধুর নদী প্রবাহিত থাকবে।”
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। কোনো সহীহ হাদীস, কুরআনের আয়াত বা প্রামাণ্য ইসলামী সূত্রে এসব ফজিলতের উল্লেখ নেই।
ইসলামি গবেষক ও আলেমদের মতে, শাওয়ালের ছয়টি রোজার প্রকৃত ফজিলত একটাই — নবী করিম (সা.)-এর বর্ণিত সহীহ হাদীস অনুযায়ী সারা বছরের রোজার সওয়াব পাওয়া। এর বাইরে বাড়তি কোনো সওয়াব বা অলৌকিক পুরস্কারের কথা প্রচার করা হলে তা বিডাত বা মনগড়া ধর্মীয় প্রচারনা হিসেবে গণ্য হবে।
ধর্মীয় বিষয়ে ভ্রান্ত তথ্য প্রচার ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী। সুতরাং শাওয়ালের ছয় রোজা সম্পর্কে অতিরঞ্জিত বর্ণনা ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে বরং সহীহ সূত্রের ওপর নির্ভর করা উচিত।
শাওয়ালের ছয় রোজা নিঃসন্দেহে একটি বড় আমল। তবে এর ফজিলত সীমিত — রমজানের রোজার পর এটি রাখলে সারা বছরের রোজার সওয়াব মেলে, এটিই একমাত্র সহীহ বর্ণনা। তাই ইসলামি জীবনযাপনে সহীহ হাদীসের আলোকে চলাই হবে পরিপূর্ণ ঈমানদারির পরিচায়ক।