২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাসের ফিটনেস সনদ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং সচল যানবাহন চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতি। দাবি মানা না হলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগজুড়ে পরিবহন ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রংপুর নগরীর জেলা মোটর মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করিম বসুনিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নীতিমালা অনুযায়ী বাস ও মিনিবাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল বা ইকোনমিক লাইফ ২০ বছর এবং ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ২৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাঁদের দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে সারা দেশে নিবন্ধিত ২০ বছরের বেশি পুরোনো প্রায় ৫৬ হাজারের বেশি বড় বাস এবং ২৮ হাজারের বেশি মিনিবাস চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
পরিবহন নেতারা বলেন, কোনো গাড়ি সড়কে চলাচলের উপযোগী কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বয়স নয়, গাড়িটির বর্তমান যান্ত্রিক ও কাঠামোগত অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।
তাঁদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের মাধ্যমে সচল রাখা যানবাহনকে কেবল বয়সের কারণে ফিটনেস সনদ না দেওয়া যুক্তিসংগত নয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৪০ ধারার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
তাঁদের দাবি, ওই ধারার আওতায় নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে চেসিস ছাড়া যানবাহনের অন্যান্য যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় সচল ও উপযোগী যানবাহনকে শুধু বয়সের ভিত্তিতে ফিটনেস সনদ না দেওয়া আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
তবে পরিবহন নেতাদের এই আইনি ব্যাখ্যার বিষয়ে বিআরটিএর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা জানান, ২০ বছরের পুরোনো বাস ও মিনিবাসের ফিটনেস সনদসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
পাশাপাশি যেসব যানবাহন যান্ত্রিকভাবে সচল এবং সড়কে চলাচলের উপযোগী, সেগুলোকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ভিত্তিতে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে রংপুর বিভাগের পরিবহন খাতে ধর্মঘটসহ সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মোটর মালিক সমিতির সভাপতি শ্রী ভবানী শংকর আগরওয়াল, সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিমুল বারী রাজ এবং রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির উপদেষ্টা সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল।
এ ছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবহন মালিক ও সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবহন মালিকদের দাবি ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারির বিষয়ে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।