ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রংপুর-৩ আসনে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। একসময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এখন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জাতীয় পার্টি এখনও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত না নিলেও পরিস্থিতি বদলে দিলে প্রতিযোগিতা আরও জমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বিএনপি রংপুর মহানগরের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে মনোনয়নবঞ্চিত নেতা অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন-নবী ডন ও রিটা রহমানের সমর্থকদের মধ্যে আছে অসন্তোষ। সামু তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, গণসংযোগ ও ‘সমৃদ্ধ রংপুর’ রূপকল্প নিয়ে মাঠে আছেন।
তিনি বলেন, “সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রচারণা করছি। গণসংযোগেও ভালো সাড়া পাচ্ছি।” তিনি রংপুরকে আইটি, শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
জাতীয় পার্টি মাঠে না থাকায় আপাতত প্রচারণায় এগিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। প্রায় এক বছর ধরে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন তিনি।
বেলাল বলেন, “মাদকমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, পরিকল্পিত রংপুর গঠনে কাজ করতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কারে সংসদে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখব।”
তার সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড স্থানীয় ভোটারদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল গত রংপুর সিটি নির্বাচনে ৫০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। এবার সংসদ নির্বাচনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের পক্ষে চমক সৃষ্টির চেষ্টা করছেন তিনি।
পিয়াল বলেন, “ন্যায্য অধিকার ও ইনসাফভিত্তিক রংপুর গড়াই আমার লক্ষ্য। তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়নই হবে প্রথম কাজ।” তিনি প্রতিদিন উঠান বৈঠক, মিছিল ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
রংপুর-৩ আসনে আরও প্রার্থী দিতে পারে— গণসংহতি আন্দোলনের তৌহিদুর রহমান, খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মণ্ডল রাজু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা নুর আলম সিদ্দিক, বামজোটের রাজেকুজ্জামান রতন বা আব্দুল কুদ্দুস।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের নির্বাচন করলে রংপুর-৩ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রূপ নেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দলটির কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত হলে দল সিদ্ধান্ত নেবে।” খবর-ঢাকাপোস্ট