ধর্ম ডেস্ক | নামাজের জামাতে অংশ নিতে গিয়ে অনেক সময় এক বা একাধিক রাকাত ছুটে যায়। ফিকহের ভাষায় এ ধরনের মুসল্লিকে বলা হয় মাসবুক। অর্থাৎ, যিনি ইমামের একটি বা একাধিক রাকাত পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। ইসলামী শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী, মাসবুক ব্যক্তিকে ইমামকে যে অবস্থায় পাওয়া যায়—সেই অবস্থাতেই নামাজে শরিক হতে হবে। এরপর ইমাম সালাম ফেরানোর পর তিনি নিজের ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করবেন।
ফিকহগ্রন্থ ‘বাদায়েউস সানায়ে’, ‘আল মাবসুত’, ‘আল বাহরুর রায়েক’সহ বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ আছে—মাসবুক ব্যক্তি ছুটে যাওয়া রাকাতকে নামাজের প্রথম রাকাত হিসেবে গণ্য করবে। অর্থাৎ কেরাতের ক্ষেত্রে ওই রাকাতে সূরা ফাতিহার সঙ্গে সুরা মিলিয়ে পড়তে হবে।
ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে ফাতিহা ও সুরা মিলিয়ে এক রাকাত সম্পন্ন করে বৈঠক শেষে সালাম দেবে।
ইমামের সালামের পর দুটি রাকাতই ফাতিহা ও সুরা মিলিয়ে পড়বে। প্রথমে বসবে না; দ্বিতীয় (শেষ) রাকাতে বসে তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া পড়ে সালাম দেবে।
ইমামের সালামের পর দুটি রাকাত ফাতিহা ও সুরা মিলিয়ে পড়বে। প্রথম রাকাতে বৈঠকে বসে তাশাহহুদ পড়বে; শেষ রাকাতে বসে সালাম দেবে।
প্রথম দুই রাকাতে ফাতিহা ও সুরা মিলিয়ে পড়বে। শেষ (তৃতীয়) রাকাতে শুধু ফাতিহা পড়বে, সুরা মিলানো যাবে না। প্রথম রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে; শেষে আবার বসে সালাম দেবে।
ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, ইমাম সালাম দিলে মাসবুক ব্যক্তির অবস্থান একক ইমামতকারী ব্যক্তির মতো হয়ে যায়। ফলে নামাজে ভুল হলে সেজদায়ে সাহু দেওয়া এবং নামাজ ভেঙে গেলে পুনরায় পড়া—এসব বিধান তার ওপরও প্রযোজ্য।
ফুকাহারা বলেন, কেরাতের ক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো নামাজের প্রথম রাকাত ধরা হবে। বৈঠকের ক্ষেত্রে ইমামের সঙ্গে পড়া রাকাতগুলো প্রথম হিসেবে গণ্য হবে এবং পরে আদায়কৃত রাকাতগুলো শেষের রাকাত হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ মাসবুক ব্যক্তি কেরাতে শুরু থেকে এবং বৈঠকে শেষ থেকে হিসাব করে নামাজ সম্পন্ন করবেন।
প্রশ্ন ওঠে—ইমাম যখন শেষ বৈঠকে বসে আছেন, তখন যারা এসে যোগ দেন, তাদের নামাজ কি জামাতে হবে?
ফিকহ ও হাদিস অনুযায়ী, উত্তর হলো হ্যাঁ। শেষ বৈঠকে শরিক হলে নামাজ জামাতের হিসেবেই গণ্য হবে। তবে সালামের পর ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো পূর্ণ করে নিতে হবে।
হাদিসে এসেছে— “ইমাম যদি রুকুতে থাকে, তবে তার সঙ্গে রুকু করবে, আর ইমাম মাথা তুললে ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো পূর্ণ করবে।” —সহিহ মুসলিম (১০৭৩)
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে— “যদি কেউ আসে এবং ইমাম বৈঠকে থাকে, সে বসে থাকবে যতক্ষণ না ইমাম সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করেন। তারপর সে তার ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো পূর্ণ করবে।” —সুনান আবু দাউদ (৮৩৩)
ফিকহ বিশারদ ইমাম আল-খাত্তাবি (রহ.) বলেন—ইমামের শেষ বৈঠকে অংশ নেওয়া সত্ত্বেও মাসবুককে অবশ্যই ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করতে হবে।