দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। এতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মোট বাজারমূলধন এক সপ্তাহে বেড়েছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজারপর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬৬ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ৪ হাজার ৭০৩ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ বাড়ে ২৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট, আর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট।
সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সঙ্গে বেশির ভাগ শেয়ারের দামও বেড়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট ৩৬৯টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৩৪৭টির দাম বাড়ে, কমে ১৮টির এবং অপরিবর্তিত থাকে চারটির। লেনদেন হয়নি ৪৪টির। সূচক বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ন্যাশনাল ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ওয়ালটন হাই-টেক, ব্রিটিশ–আমেরিকান টোব্যাকো এবং আল–আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শুরুতে বাজারমূলধন ছিল ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা। সপ্তাহের শেষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজারমূলধন বেড়েছে ৭ হাজার ৮২০ কোটি টাকা বা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ।
লেনদেনেও ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩৯৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ৩৫৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা; সপ্তাহের ব্যবধানে গড় লেনদেন বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি।
খাতভিত্তিক লেনদেনে প্রকৌশল খাত শীর্ষে ছিল। মোট লেনদেনের ১২ শতাংশের বেশি ছিল এ খাতের শেয়ার। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত, তৃতীয় স্থানে বস্ত্র খাত। এরপর ব্যাংক এবং জ্বালানি–বিদ্যুৎ খাতের অবস্থান।
রিটার্নের দিক থেকে কাগজ ও মুদ্রণ খাত সবচেয়ে ভালো করেছে। এ খাতে রিটার্ন এসেছে ১৩ শতাংশের বেশি। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিরামিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। বিপরীতে টেলিযোগাযোগ ও ওষুধ–রসায়ন খাতে ছিল সামান্য নেতিবাচক রিটার্ন।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে সূচক বেড়েছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৬৪২ পয়েন্টে। এ সময়ে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকার, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কম।