সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

রংপুরের কাউনিয়া-পীরগাছা-মিঠাপুকুরেও বাড়ছে আতঙ্ক

অ্যানথ্রাক্সে নতুন আক্রান্ত আরও দুজন

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১২১ জন সংবাদটি দেখেছেন
অ্যানথ্রাক্স রোগ-প্রতীকি ছবি
অ্যানথ্রাক্স রোগ-প্রতীকি ছবি

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় নতুন করে আরও দুজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়েছে। এর আগে পীরগাছায় ৮ জন এবং মিঠাপুকুরে ১ জনসহ মোট ৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে জেলায় মোট ১১ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত হলো। বুধবার (১ অক্টোবর) রাতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত জুলাই ও সেপ্টেম্বরে পীরগাছায় অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত মানুষ আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে আইইডিসিআরের প্রতিনিধিদল ১২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে, যার মধ্যে ৮ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স ধরা পড়ে। সেই সময় অসুস্থ গরুর মাংসের নমুনাতেও অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়।

অন্যদিকে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিঠাপুকুর উপজেলার আমাইপুর গ্রামে একটি অসুস্থ গরু জবাই করার পর স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকজন অসুস্থ হন। এ ঘটনায় সংগৃহীত নমুনার ভিত্তিতে একজন পুরুষ ও এক নারীর শরীরে অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত করা হয়েছে।

কাউনিয়ার ঠাকুরদাস গ্রামে আক্রান্ত গরুর মাংস কাটাকাটি ও খাওয়ার কারণে চারজন—সোহেল (৩৫), এরশাদুল ইসলাম (৪০), জাহিদ হোসেন (২৮) এবং শান্তা বেগম (২৫)—অসুস্থ হন। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে এবং অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

কাউনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন জানান, প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকায় ৫ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩০ হাজার ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৬ হাজার গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে দ্রুতই ৩৫ হাজার ভ্যাকসিন প্রদান শেষ হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে টিম গঠন করে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি হাটবাজারে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, পথসভা ও কসাইদের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. এম এ হালিম লাবলু জানান, অ্যানথ্রাক্স গবাদিপশু থেকে মানুষে ছড়ালেও মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। আক্রান্ত পশুর মাংস, রক্ত বা শ্লেষ্মার সংস্পর্শে আসলেই মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তিনি মাংস ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুজয় সাহ বলেন, আক্রান্তদের নমুনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা চলমান রয়েছে এবং আক্রান্তদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

চিকিৎসক ও প্রশাসনের মতে, জনসচেতনতা ও নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমেই অ্যানথ্রাক্স নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com