ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে সৃষ্ট ভয়াবহ এই বন্যায় দুই লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজারের বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। বিদ্যুৎ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় এখনো নেই বিদ্যুৎ কিংবা নিরাপদ পানি। কেলানি নদীর পানির স্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় কয়েকটি এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কেন্দ্রীয় জেলা কান্ডি ও বাদুল্লা। এসব এলাকার অনেক গ্রাম এখনো বিচ্ছিন্ন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রী ডব্লিউএম শান্তা জানান, আমরা খুব ভাগ্যবান… যখন ছাদের ওপর ছিলাম, তার একটা অংশ ধসে পড়েছিল। তিনজন নারী পানিতে পড়ে গেলেও পরে সবাইকে নিরাপদে উঠিয়ে আনা হয়। বন্যা-ভূমিধসে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি দেশের বাইরে থাকা শ্রীলঙ্কানদের আর্থিক সহযোগিতা পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া দ্বীপরাষ্ট্রটির পূর্ব উপকূলে আঘাত হেনেছিল, তবে পরে সরে গেছে। তবে এখনো সেখানে মৌসুমি বৃষ্টি চলছে। শ্রীলঙ্কায় এত ভয়াবহ আবহাওয়া খুবই বিরল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শ্রীলঙ্কার চলতি শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল ২০০৩ সালের জুনে। আসেময় ২৫৪ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।